সুকান্ত
১৯৯২ ৬ই ডিসেম্বরের পর ভারতীয় জনতা পার্টী তে আমি যোগ দিলাম । তখন রাজ্য সভাপতি তপন শিকদার আর জেলা সভাপতি হৃষীকেশ বাবু বিলেত ফেরত মানুষ তিনি সেই সময় অভয় ভট্টাচার্যের বাড়িতে সদস্য পদ দেবার সময় বলে ছিলেন তাহলে দেশ প্রেম তাহলে ভিতরে ছিল । সেদিন বুক ভরে গিয়েছিল দেশ প্রেমের কথা শুনে । কমিউনিস্ট পার্টীতে কোথাও দেশ প্রেম এর অভাব আমি মনে করেছিলাম । তারা আনর্জাতিকতা নামে এরা আমাদের দেশের মনীষী দের চিন্তা ভাবনা বাদ দিয়ে বিদেশী কিছু চিন্তা দ্বারা প্রভাবিত । তাই এদেশের কমিউনিস্টরা মানুষের হৃদয়ে পৌছাতে পারে নি । তাই বহু কমিউনিস্ট নেতার স্বার্থ ত্যাগ , বলিদানের পার্টিকে কিভাবে গ্রাস করেছিল । দলের মধ্যে আন্তঃপার্টি সংগ্রাম করেছি , লিখিত ভাবে পার্টির বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবাদ করেছি । পার্টি ব্রাঞ্চ থেকে জোনাল পর্যন্ত ১৯৭৭ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত সাচ্চা কমিউনিস্ট কি করে হতে হবে লি শাই চি এর বই পরে চে গুয়েভারা হতে চাইছি ।
রাজনীতি তে এসে আমি দেখলাম দলটি আস্তে আস্তে কিভাবে অধঃপতনের দিকে এগিয়ে চলেছে । কিভাবে সমাজে লুম্পেন রা স্বার্থ পর মানুষ দল টা দখল করল আর নিজেদের প্রয়োজন মত তারা নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি করেছেন । তার ফল বিমান ,বুদ্ধদেব কে দিতে হচ্ছে । তারা এদেশের মানুষ কে স্বপ্ন দেখাতে পারেনি । হয়ত সইফুদ্দিন চৌধুরী ,সুভাষ চক্রবর্তী রা এই পার্টীর ভবিসৎ সম্পর্কে সন্দিহান ছিলেন সোভিয়েত ও পূর্ব ইউরোপ এর ঘটনা বলী প্রমান করে দিয়েছে মার্ক্সবাদ ব্যর্থ মানুষকে বুঝতে পারেনি । তারা যান্ত্রিক ভাবে মানুষ কে বুঝতে চেয়ে তারা ভুল করেছে । ভারতীয় মুনি ঋষি রা এই পথের সন্ধান দিয়েছে ।
ন্তুন পথের কাহিনী বলার আগে আমার মতবাদিক জিজ্ঞাসা আমার মনে আসেছিল । আগামিদিন এর প্রথম সংখ্যা প্রথম বর্ষ ।
“সুকান্ত কে হত্যা করা হয়েছে
রানার বিদ্রোহী অবাক পৃথিবী গান শোনেন সেই পেশাদার বিপ্লবী রা সুকান্ত কে তিলে তিলে সুকান্ত কে হত্যা করা হয়েছে । তার মৃত্যু পর তাকে নিয়ে রাজনৈতিক ব্যবসা করা হয়েছে । স্বাধীনতা দৈনিকের কিশোর বিভাগের পরিচালক । তাকে এই বিভাগ আর অখণ্ড বাংলা কিশোর বাহিনির প্রধান । কর্মী প্রতিভা যুক্ত দীপ্ত এই কিশোর । দিন চলে কিভাবে কোন কর্মী খোজ নেয়নি । উপেক্ষা করেছে ।
এই মার্ক্সবাদী দের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পতাকা তুলে ছিলেন কিন্তু অকালে অসময়ে তাকে চলে যেতে হয়েছে প্রভাতের কুয়াশাতে এই সুকান্ত কে আমরা জানি না ।
সুকান্ত তার বাল্য জীবনে স্নেহ মমতা প্রায় পাইনি । তার অত্যন্ত কাছের মানুষ ছিল জ্যেঠতুত দিদি । সুকান্তের এগারো বছর বয়সে রানিদি মৃত্যু হয় । কিছু দিন পরে মা ও মারা যায় । বাবা সারাদিন ব্যস্ত বই এর দোকান নিয়ে ,নামেই দোকান তার থেকে বিশাল কিছু উপার্জন হত না । দারিদ্র দশা ছিল সুকান্তর চির সঙ্গী ।
সুকান্তের তীব্র ইচ্ছে আমি কবি হব । সঙ্গে হব আধ্যাপক বাংলার । আমরা পেয়েছি কিন্তু আধ ময়লা নোংরা জামা ,এবং পায়জামা ,এলো মেলো চুল , পায়ে শত ছিন্ন চটি । সর্বত্র আমরা সুকান্তকে আমরা দেখেছি ।
শৈশব এবং যৌবনের মাঝা কৈশোর আর এই বয়সে মন থাকে শুন্য কিন্তু কিছু একটা করার জন্য ,কিছু পাওয়ার জন্য মন ব্যকুল থাকে ।আর এই বয়সের ছেলে দের ধরার জন্যে ফাঁদ পাতে কমিউনিস্ট পার্টি । সুকান্ত কে ধরল কমিউনিস্ট পার্টি আর কিশোর সুকান্ত ও আঁকরে ধরল পার্টি কে । এই বয়সে অত বিচার বুদ্ধি পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতা থাকে না । নূতন হাত ছানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ল সুকান্ত ।
সুকান্ত এক অসাধারন কাব্য প্রতিভা নিয়ে পৃথিবী তে এসেছিল । গবেষক রা বলেন মাত্র একুশ বছরে সুকান্ত বাংলা সাহিত্যে যা দিয়ে গেছে তা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বয়সে দিতে পারে নি । সুকান্তের কবি শক্তি জীবনের চৌরাস্তা তে না গিয়ে পার্টীর চোরা গলি ঢুকে পথভ্রষ্ট হল । কবি বুদ্ধদেব বসুর ভাষায় কবি হবার জন্য জন্মে ছিলেন সুকান্ত , কবি হবার আগেই তার মৃত্যু হল । কোন মতবাদের দাসত্বে কবির স্বাভাবিক বিকাশ কিভাবে আব্রুদ্ধ হয় তার সব চেয়ে বড় প্রমান সুকান্ত । তাই তিনি ব্যক্তিগত ভাবে পরে তাকে বলেছিলেন রাজনৈতিক পদ্য লিখে সময় ও শক্তি ক্ষয় করছ । সেদিন এই উপদেশ কাজ করেনি ।
সুকান্ত মারা যায় ক্ষয় রোগে । এ রোগ একদিনে হয় না । আর রোগী অল্প দিনে মরেনা । কমিউনিস্ট পার্টী সুকান্ত কে পেয়েছিল সব সময়ের অক্লান্ত সব সময়ের কর্মী । কিন্তু পার্টী শুধু নিজের কাজ ছাড়া আর কিছু বুঝত না । সুকান্ত কোথায় খায় ,কোথায় স্নান করে কেমন তার শরীর এসব খোজ রাখত না নেতারা ।তার বাড়িতে এমন কেউ ছিল না যে আসুস্ত সুকান্ত ওয়াচ রাখে ।
সুকান্তের দাদা রাখাল ভট্টাচার্য সুকান্তের শেষ জীবন প্রবন্ধে লিখেছেন কাক ভরে সুকান্ত বেড়িয়ে যেত পার্টির কাজে । এত ব্যস্ততা তার পার্টীর কাজে যে বাড়ি এসে খেয়ে যাবার সময় নেই । অনেক দিন চানাচুর খেয়ে জল খেয়ে কাটিয়ে দিয়েছে । পকেটে থাকত না টাকা পয়সা । পায়ে হেটে নারকেলডাঙ্গা বেলেঘাতা থেকে সারা কলকাতায় পার্টির কাজ করে বেড়াত । পার্টির দাদা রা যে যার কাজে ব্যস্ত কে খবর সুকান্তের কিভাবে চলছে ?
একবার পার্টী তাকে চট্টগ্রামে ছাত্র সম্মেলনে যেতে বলে ।কিন্তু তার কাছে টাকা পয়সা আছে কিনা কেউ তার খোজ নিল না । আমি জিজ্ঞেস করলাম কেমন হল ? আসার পথে দুই দিন ক্ষুধাতে কষ্ট পেয়েছি । কিছু খায় নি পয়সাও ছিল না ।
সারা দিন রাত অবধি নানা কাজে ব্যস্ত থাকত । খাবার দাবার ঠিক মত জুটত না । এমনিতে দুর্বল শরীর তার উপর অতিরক্ত পরিশ্রম । তার শরীর ভেঙ্গে গিয়েছিল । পার্টী সব জানত । কিন্তু কিছু করেনি । এই রকম প্রতিভা কে তিলে তিলে হত্যা করেছে । আজ আমাদের সুকান্ত কে হাড়িয়ে যাবার বেদনা নিয়ে থাকতে হত না ।
সুকান্ত সব বুঝত । হতাশা ,ক্রোধ বিরক্তিতে অনেক সময় ফেটে পড়েছে । অসুস্থতার জন্য সে সব কাজ সম্পূর্ণ না করার ফলে পার্টী তাকে নিগড়ে নিয়ে পার্টি তাকে ছিবড়ে মত ছুড়ে দিচ্ছে । বিশ্ব ইতিহাস জুড়ে কমিউনিস্ট ইতিহাসে এমন অতীতে ছিল বর্তমানে আছে ভবিসৎথাকবে । সুকান্ত ক্ষয় রোগে আক্রান্ত হবার পর পার্টির তথাকথিত নেতাদের উদাসীনই উপেক্ষা ,অবহেলা দেখিয়েছে তা ক্ষমার অযোগ্য । আর নেতদের জন্য টাকার অভাব কোনদিন ছিল না । সুকান্তের মত না খেতে পাওয়া যক্ষ্মায় কিংবা নানা রোগে ভুগে গ্রামে শহরে মারা যাচ্ছে নির্বোধ কমরেড রা । তাদের আত্মত্যাগ বলে বলে তাকে মহিমা দেওয়ার চেষ্টা করে । আর তাদের আত্মত্যাগ সামনে রেখে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যায় । দেশ প্রেম তাদের কাছে সংকীর্ণ মন ভাব । জাতীয়তা তাদের কাছে ফ্যাসিবাদ । বহু ক্রোধ দেখা যাচ্ছে কিন্তু নিস্তাবান কর্মী দের তাদের কাছে কোন প্রেম ভালবাসা থাকে না ।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় সুকান্তের অসুখের কথা ,অর্থ অভাবে চিকিৎসা করতে পারছে না । সেদিন ভারতীয় গননাট্য সঙ্ঘ নিয়ে সারা বাংলা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে । সুকান্তের কাশির আওয়াজে সেদিন এই নেতাদের কানে পৌছাই নি । নবনাট্য আন্দোলনে আনন্দে চাপা পড়েছিল ।
হরপ্রসাদ মুখপাধ্যায় লিখেছেন সুকান্তের সাথে দেখা করতে গেলে সুকান্ত দুঃখ করে বলল কাল রাতে খাট থেকে পড়ে গিয়েছিলাম , সারা রাত ঘুমতে পারিনি । গরমে বড় কষ্ট হয় । দম নিতে পারি না । নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে । আমাকে একটা টেবিল ফ্যান জোগাড় করে দিতে বলে ।
তাই তার মনে এ প্রশ্ন আসতে শুরু । তাই তিনি বলেছিলেন ” তাহলে বুঝব তোমরা মানুষ নও । গোপনে গোপনে দেশ দ্রোহীর পতাকা বও ।”
এর আগে এক বন্ধু কে চিঠি লেখেন ” আমার খবর ? শরীর আর মন দুই দুর্বল । অবিশ্রান্ত প্রবঞ্চনা আঘাতে মানুষ যে সময় পৃথিবীর উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে ওঠে ঠিক সেই সময় এসেছে আমার জীবনে “।
এই আঘাত টা সুকান্তকে দিয়েছে ? ট্যাটা বিড়লা বা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ না পার্টী কমরেড রা ? সুকান্ত তার বন্ধুকে লিখেছে ঃ অবিরাম আন্তরিক খাটুনি র পুরস্কার হিসাবে পার্টীর নেতাদের থেকে পেলাম পাঁচ টাকা আর পার্টী হাসপাতালে চার দিন জন্য ঔসধ হীন শয্যা । এত বড় পরিহাসের সনমুখিন জীবনে আর কখন হয় নি ।”
যন্ত্রণা ও হতাশা নিয়ে মৃত্যুর আগে সুকান্ত লেখে ।
ব্যর্থতা বুকে অমন দেহ বহু অভিযোগ আমার ঘাড়ে ।
দিনরাত শুধু বেদনা আমাকে নির্দয় হাতে চাবুক মারে ।
এখানে ওখানে পথ চলতেও বিপদকে দেখি সন্মুখ ত ।
মনোহর যেন জীবন ধারন বুঝি খানিক টা অসঙ্গত ।
মুজ্জফর আহমেদ স্বীকার উক্তি দিয়ে আমার প্রবন্ধ শেষ করতে চাই । একদিন ঢাকার সামসুদ্দিন আমার বাসায় এলেন আর বললেন সুকান্ত ভট্টাচার্য এর বাড়ি গিয়েছিলাম , এবং সে যক্ষ্মা রোগ আক্রান্ত হয়েছে । আমার পকেটে ৫ টাকা ছিল তাকে দিয়ে এলাম । আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম । অঘটন ঘটে গেল । আমি কলকাতার স্থায়ী বাসিন্দা কমিউনিস্ট পার্টীর বৃদ্ধ লোক আমি । ঢাকা থেকে সামসুদ্দিন এসে আমাকে সুকান্তের অসুখের খবর দিলেন । ভাবলাম আমার বিচ্যুতির কারনে নিজে কে কি কোন দিন ক্ষমা করতে পারব কোনদিন ?
আঠার বছর বয়স কি দুঃসহ
স্পর্ধা নেই মাথা তোলার ঝুক…
আঠার বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি ।।
এই লেখাতে আমি আমার জীবনে র দেখা ও ছায়া অভিজ্ঞতা থেকে লেখা ।এটা নিয়ে পার্টীর অভ্যন্তরে বিতর্ক হয়েছিল , গণশক্তি প্ত্রিকা তে এই লেখা খণ্ডন একটি লেখা বেড়িয়েছিল ।
আমার মা

আমার মা তারা দেবী সম্পর্কে কিছু না বললে হয়তঃ আমার বলা আমার জীবন কাহিনী অসমাপ্ত থেকে যাবে । তিনি এক অদ্ভুত ধরনের মানসিকতা ছিল তার । যদিও তার পরিবেশ তাকে এই ভাবে তৈরি করেছিল । আমার মামার বাড়ি কটিহারের বুধনগর গ্রামে । আমার দাদুর নাম শ্রী মোহন ঝা । তার দুই ছেলে আর তিন মেয়ে । শ্রী মোহন ঝা সেই অঞ্চলে একজন তান্ত্রিক হিসাবে পরিচিত ছিলেন । রতুয়ার জোতদার বাড়িতে মেয়ে কে বিয়ে দিয়ে সুরেন্দ্রনাথের মত প্রভাব ও প্রতাপশালী জামাই পেয়ে খুব খুশি হলেও আমাদের পরিবারের বিপর্যয়ের পিছনে আমার মায়ের অবদান অনেক বেশী । বাবার অনুপস্থিতি তাকে নিজের সম্পত্তি নিজে ধ্বংস করার জন্য অন্য কাউকে দরকার হয়নি সে নিজে সেটা করেছে । বাবার মৃত্যুর পর আমি যখন জাননগর ছেড়ে দুর্গাপুরে বসবাস শুরু করেছি । তখন আমাদের গ্রামের কয়েক জন আমাদের বাড়ির আসবাব প্ত্র আর পেতল কাঁসার বাসন গুলি আত্মসাত করে আজও বাসন গুলি আমাদের গ্রামের কয়েক জনের বাড়িতে পাওয়া যাবে । এর কারন নাকি অপুত্রের সম্পত্তি আমাদের বাড়ীতে থাকা উচিত নয় । এগুলি দান ধ্যান অথবা বিক্রি করেছেন । শুধু তাই নয় বাবা তার সম্পত্তি মা ও আমার নামে উইল করে করে যান । আমি দুর্গাপুরে চলে আসার পর সেই জমি গুলি অনিল ঘোষ নামক ব্যক্তির কাছে কয়েক বিঘা জমি হস্তান্তরিত করেন আমাকে না জানিয়ে ।
আমি পারিনি তাকে এই ধ্বংস লীলা থেকে আটকাতে । কারন কল্পনা কে বিয়ে করার পর আমার মায়ের সাথে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে । অনেক বার তাকে দুর্গাপুরে নিয়ে এসে রাখার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়েছি । কারন কল্পনা কে সে একেবারে মেনে নিতে পারেনি । ৮২ সালের পর আমার জীবনকে নরকে পরিণত হয়ে ছিল । কুসন্তান যদি হয় কুমাতা নয় কিন্তু আমার জীবনে উলটো হয়েছিল । আমি আমার ভাগ্য কে দোষ দেওয়া ছাড়া আমার সামনে কোন পথ নেই । যদিও আমার জীবনের এই ঘটনা গুলি নিয়ে কারন খুজতে আমি পেয়েছি জ্যোতিষের মধ্যে । তাতে বলা হয়েছে চতুর্থ স্থানে কেতু অবস্থানের কারনে জাতকের মায়ের সাথে সম্পর্ক ভাল থাকবে না । শুধু তাই নয় । জাতককে জন্মস্থান থেকে দূরে চলে জেতে হয় । জন্ম ভুমি জননী এর কাছে আমার কি অপরাধ আজও কোন সদুত্তর আমি পায় নি । যন্ত্রণা নিয়ে আমি আজও বেচে আছি ।
আমার জীবন ও কল্পনা
১৯৭৩ সালের শেষের দিকে আমি জাননগর ছেড়ে স্থায়ী ভাবে দুর্গাপুরে বসবাস করতে লাগলাম আর গোপনে স্থানীয় সি পি এম নেতা সুখেন সরকারের সাথে যোগাযোগ রেখে এখানে পার্টীর কাজ করতাম গোপনে কারন সিদ্ধার্থ জমানার আধা ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাস বহু কর্মী খুন হয়েছে আর এলাকা চ্যুত অনেকে । আমিও একপ্রকার বাধ্য হলাম যুগল মিশ্র ছদ্মনামে যে এলাকাতে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৭ কোন সি পি এম নেতা প্রবেশ করতে পারত না । সেখানে এক কংগ্রেস নেতার বাড়িতে থাকতে শুরু করলাম তার নাম শ্রীপতি মিশ্র । তার ছোট ভাই হিসাবে পরিচিতি লাভ করলাম । শ্রমিক দের মাঝে সিদ্ধার্থ রায়ের শাসনের ঘটনা গুলি তুলে ধরতাম । মানুষ আমাকে সমর্থন আস্তে আস্তে তাদের মাঝে আমার জনপ্রিয়তা বাড়তে লাগল , এখানে গড়ে তুললাম গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন ও দুর্গাপুর প্রজেক্টস কন্ট্রাক্টর লেবার ইউনিয়ন ।
১৯৭৭ সালে অবসান হল রাজ্যে আধা ফ্যাসিবাদী শাসনের আর কেন্দ্রে গঠিত জয় প্রকাশ জী আন্দোলনের ফলে জনতা সরকার , মোরারজী ভাই এর সরকার । জেলার যুব আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা ও ঠিকাদার শ্রমিক নেতা হিসবে দুর্গাপুরে পরিচিতি লাভ করেছি । প্রশাসন ও মান্য গণ্য করছে । ডি ্পি এল এ যুব নেতা হিসাবে এই খুব জনপ্রিয় হয়ে গেলাম ।
১৯৮০ সাল নাগাদ আমার জীবনে আসে কল্পনা । তাকে বিয়ে করি ১৯৮১ সালে ৭ই নভেম্বর । আর এই বিবাহ আমার জীবনে ডেকে আনে এক বিপর্যয় । আমার মা তাকে কিছুতে মেনে নিতে পারেনি । আমি পারিনি আমার মা আর স্ত্রী কে এক সাথে রাখতে । প্রায় বাধ্য হয়েছিলাম মাকে আমার গ্রামের এক ব্যক্তির কাছে জমি চাষ আবাদ করতে ও মাকে দেখা শুনার দায়িত্ব দিয়েছিলাম । মার সাথে আমার মতপার্থক্য এর কারনে ও তার জীবন ধারনের পদ্ধতি নিয়ে একমত হতে না পারার জন্য আমাকে জাননগর যাওয়া বন্ধ হয়ে । এই সুযোগে সে আমাকে না জানিয়ে একটি করগেট টিনের বাড়িটি আত্মসাৎ করে । এমন কি তার মৃত্যু সংবাদ পর্যন্ত আমাকে দেওয়া হয় নি ।
তার পর অনেক বছর কেটে গেছে আমি আবার কল্পনা কে নিয়ে সেই জাননগরের মাটী তে পা দিতে চলেছি আমার পৈতৃক ভিটে তে । কল্পনাই একমাত্র সাক্ষী আমার সেই ঝড় দিনের । কমিউনিস্ট পার্টী করতে এসে নিজের জীবনে ডি ক্লাস হবার কাহিনী ।
আমার মা
এবার আমার জীবনে আমার মায়ের ভুমিকা নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন মনে করি । ১৯৭৩ সাল আমার বাবা হঠাৎ বাবা মারা গেলেন । আমি তখন মালদহে মানিক ঝা , শইলেন সরকার , জীবন মৈত্র দের সাথে যুব আন্দলনে জড়িয়ে পড়েছি , জেলা ব্যাপি তখন পার্টির কাজ করছি । প্রথম যুক্ত ফ্রন্ট , দ্বিতীয় যুক্ত ফ্রন্ট আর ৭০ এর দশক থেকে নকশাল বাড়ি আন্দলন আর ভুমি দখল রাজ্যে কায়েম হল আধা ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা তার মধ্যে লড়াকু শ্রমিক আন্দলন আমাকে ডাকছে । চলে এলাম বেশ কিছু জায়গা আর একটি আটচালা করগেট টিনের একটি বাড়ি , আম , কাঁঠাল , জাম, পেয়ারা , লিচু ঘেরা বসত বাড়ি । আর ছিল বংশানুক্রমে গড়া একটি লাইব্রেরী , ছিল পিতল ,কাঁসা র বাসন । আর ছিল পৈতৃক জমি জমার দলিল ।
আমার মা জানতেন আমি বই ভাল বাসি । সেই সময় আমার নামে সোভিয়েত ইউনিয়ন, সোভিয়েত দেশ সোভিয়েত সমীক্ষা প্রভৃতি ম্যাগাজিন আসত । ছিল পূর্ব পুরুষের সংগ্রিহিত অমুল্য পুস্তকাদি । ছিল জমিদারী অনেক কাগজ পত্র ।
বই আমার জীবন । বই আমার মননে । আমাদের বাড়ি তে অনেক রকম পুজা হত । বিশেষ করে সরস্বতি পুজা অনেকে আসতো হাতে খড়ি দিতে । আমার আজও মনে ঐ টিনের বাড়িতে রাত্রে ঘুমিয়ে পড়তাম বুকে বই লণ্ঠন জ্বলত ।
১৯৭৩ সালে দল ও কর্মস্থানের জন্য দুর্গাপুরে এসে বসবাস করতে শুরু করলাম । কয়েক বছর পর যখন বাড়ি দেখলাম সমস্ত কাঁসা ও পিতলের বাসন বিভিন্ন লোকের কাছে । আবার জমি জায়গায় দেখলাম এক ব্যক্তি যার নাম অনিল ঘোষ সে আমার জমি চাষ করছে । পরে শুনতে পেলাম অনিল ঘোষ নামক মাকে ভুল বুঝিয়ে লিখিয়ে নিয়েছে । আমি গেলাম আমার ছোট সন্তান কে নিয়ে ।
২০/২২ জন লোক নিয়ে আমাকে আক্রমণের চেষ্টা হল ,আমি প্রান বাচাতে বাধ্য হয়ে সরে পড়লাম । এদিকে কল্পনা বিয়ে করে তাকেও আমি ছেড়ে দিতে পারিনা । তাই আমার সাথে আমার মায়ের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেল । এই সুযোগে অনিল ঘোষ এক বিধবার জমি থেকে উচ্ছেদ করে । আমি পারিনি তার পাশে দাঁড়াতে কারন আমি চেয়েছিলাম এক আর হল এক । সবই আমার নিয়তি । কল্পনার সাথে তাকে এক জায়গায় আনতে পারিনি । এখানে আমার উপরে নেমে এসেছে অভিশাপ । এই অভিশাপ মুক্ত হয়ে আমি এগিয়ে জেতে চাই আমার মতাদর্শ যা আমি আমার জীবন দিয়ে গড়েছি ।

আমার জীবন ও রাজনীতি
১৯৬৬ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত রাজনীতির ইতিহাস , অন্তরালের কাহিনী । আমার দেখা সেই সব দিনের ঘটনাবলী আমাকে ভাবতে বাধ্য করে কমিউনিস্ট মতাদর্শ সম্পর্কে । বিশ্ব মানবতার মুক্তির রথ রাশিয়া , চীন ,ভারতের বুক চিড়ে পৃথিবীর দেশে দেশে বিজয় অভিযানে বেরবে , লেনিনের এই স্বপ্ন মাও এর চীনে সফল হলেও ভারতে বাস্তবায়িত হয় নি । অন্যান্য দেশের কমিউনিস্ট পার্টি র ভারতের কমিউনিস্ট পার্টী কতগুলি সমস্যা নিয়ে জন্ম নিয়েছিল । চীন ,ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশ পার্টীর সমস্যা গুলি বাস্তবানুগ সমাধান করে এগিয়ে গেলেন । আর ভারতের কমিউনিস্ট নেতা রা সেগুলো পাশ কাটিয়ে বা ধামা চাপা দিয়ে চলতে গিয়ে নানা জটিলতার সৃষ্টি করেন । তাই কখনও এদেশের পার্টী ডাইনে কখন বামে চলতে হয়েছে । আর সমগ্র পার্টী বুর্জুয়া ভাইরাসে আক্রান্ত হল । নিজের প্রভাব আর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য ক্যাডার টানার নীতি চালু করল ।
৭০-৭১ এই রাজ্যের যুব ছাত্র রা ও তাদের তুলে ধরা ” চীনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান ” জাতীয় পরিষদ পশ্চিম বঙ্গ পরিষদ ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে । সঙ্গে সঙ্গে গড়ে উঠল পাল্টা কেন্দ্র । পৃথ্বীরাজ নামে সমর মুখারজি এই কেন্দ্রের নেতৃত্ব দেবার জন্য আত্মগোপন করে ।
দীনেশ মজুমদার সভাপতিত্বে ন্তুন গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন । যোগ দিলেন সুবিনয় ঘোষ । পার্টী যে ভাঙতে চলেছে তা আমরা ছাত্র যুব কর্মীরা আগেই বুঝতে পেরেছিলাম । এই ঝড় সময়ে দীনেশ মজুমদারের উপস্থিতি তে বাহারালের এক সম্মেলনে রতুয়া আঞ্চলিক যুব ফেডারেশনের সম্পাদকের দায়িত্ব নিলাম । চাঁচলে জেলা সম্মেলনে সভাপতি হলেন শইলেন সরকার আর সম্পাদক হল জীবন মৈত্র । গোটা রতুয়া থানা ব্যাপি চলল গড়ে তোলার কাজ ।
আমার ফেলে আসা ছোট বেলা
আমার পরিবারের বৈচিত্রময় পরিণতি আমি দেখেছি । আমার জীবনে কিছু ঘটনা ঘটেছে তার কোন ব্যাখা আজও খুজে পায়নি । আমার ঠাকুরদা ভজগবিন্দ ঝা প্রভাবশালী জ্ঞানী গুণী মানুষ ছিলেন । তার পিতা গদাধর ঝা । কর্ম সন্ধানে মিথিলা থেকে মালদহ জেলার নুরপুর গ্রামে বসবাস শুরু করেন । বড় জামাই দুর্গাপ্রসন্ন মিশ্রের পরামর্শে রুকুন্দিপুরে বাড়ি করে বসবাস শুরু করেন । বড় জামাই এর শশুরের সম্পত্তি উপর লোভ বাড়ছে জোত জামাই । দুর্গাপ্রসাদ আর কালিপ্রসাদ দুই ভাই । বিশাল সম্পত্তি মালিক হলেও তার লোভ তাকে কোথায় নিয়ে জেতে পারে একদিন রাত্রে গোয়াল ঘরে আগুন লাগিয়ে দিলেন । ঠাকুর দা তখন মুসলমান অধুসিত গোয়ালা দের গ্রামে ৯ বিঘা জমির উপর মধুবনী স্টাইলে টিনের বাড়ি করে প্রায় ৮০ টির মত গ্রু বলদ আর ভালুয়ারা মৌজার জমির ফসল আর ডাউইয়া থেকে আসা জমির ফসল আর সম্পত্তি কোন অভাব ছিল না এই পরিবারে । ছিল ২০/২৫ বিঘার মত আম বাগান যাতে বিভিন্ন জাতের ফল আম , কাঁঠাল ,পেয়ারা লিচুর গাছ । ভজগবিন্দ ঝা তার বাস্তু ভিটে ঠিক সেই ভাবে বিভিন্ন রকম ফুল ফল গাছ দিয়ে সাজান বাড়িতে থাকতেন দুই সন্তান সুরেন্দ্রনাথ আর দয়ানাথ । তিন মেয়ে কৌশল্যা ,অহল্যা , সরলা , তিন জামাই ।
বড় জামাই এর কারনে রুকুন্দিপুর থেকে জাননগরে এসে বসবাস শুরু করলেও এখানে এসে আবার বিপত্তি নেমে এলো আবার রতুয়ার চৌধুরী দের সাথে জমি জমা সংক্রান্ত একটা মামলায় ঠাকুর দা কে পরাজিত করে তারা ভালওয়ারা মৌজা দখল নিল চৌধুরীরা । আমার ঠাকুর দা যে ব্রিটিশ শাসক রাজা পঞ্চম জর্জ কে বন্দনা করে কবিতা লিখে তার হাত থেকে পুরস্কার পেয়েছিলে । যার সঙ্গীত চর্চা আনত পরিবারে মধুর পরিবেশ সেই সন্ত ুগুহি মিশ্র লোকে সেই নামে তাকে ডাকত । সেই সময় মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেন , প্রায় উন্মাদ হয়ে পড়লেন তিনি । হঠাৎ একদিন মারা গেলেন । সুরেন্দ্রনাথের তখন বয়স ১৮/১৯ হবে । তিনি হাল ধরলেন পরিবারে । দয়ানাথ বাড়ি ছেড়ে গেলেন বিহার পুলিশে যোগ দিয়ে সেখানে বসবাস করতে লাগলেন । সুরেন্দ্রনাথ নুরপুরের খাঁ দের জমিদারীর গোমস্তা র কাজ করতেন । সঙ্গে থাকত দুই পেয়াদা । সমগ্র খাজানা ও দেখভালের দায়িত্ব তার । ইতি মধ্যে তিনি ছোট ভাই বোন মানুষ করেছে নিজে বিবাহ করেছে কিন্তু ভাগ্যের হঠাৎ তার স্ত্রী মৃত্যু হল । যার বংশ ধরেরা এখন নাজিরপুর গ্রামে বসবাস করে । আর আমার বাবা বিয়ে করতে চায় কিন্তু ঠাকুর মা ও আমার কাকার প্রচেষ্টায় কটিহারের বুধনগর গ্রামে আবার বাবা বিয়ে করেন । চিন্তা ভাবনা সংস্কৃতি তে তাদের সাথে বাবা নিজেকে মিলাতে পারে নি । আমার জন্ম আনেক দেব দেবী প্রার্থনা পূজা পাঠ মধ্যদিয়ে হলেও বাবা মায়ের মনের মিল কোনদিন ছিল না । এই অমিলের জন্য মা আমাকে ছোট বেলায় একবার ছেড়ে কটিহার চলে যান । যদিও বাবা আমাকে দেখাশুনা করার চাকর রেখে ছিলেন । তার পর মা ফিরে এসেছিল । তাদের বিরোধ মিটাতে আমাকে বহু বার বহু পন্থা আমাকে নিতে হয়েছে । আস্তে আস্তে বড় হয়েছি , পড়াশুনা করেছি । স্বুল জীবন রতুয়া উচ্চতর মাধ্যমিক স্বুলে পড়েছি সেখানে এক বিদায় সভায় আমি বলেছিলাম আমরা এর পর কর্ম জীবনে হারিয়ে যাব । বাস্তবে আমার জীবনে হয়েছে তাই আমি ভাবছি । আমি যখন কমিউনিস্ট মতাদর্শ গ্রহণ করলাম তখন আমার পার্থিব সম্পত্তি বোধের জায়গা থেকে এসে বিপ্লবী মানসিকতায় আসক্ত হয়ে তাই নিজের বৈষয়িক বিষয়ে নজর দিতে পারিনি । আমি আধা ফাসিবাদি সন্ত্রাসের সময় দুর্গাপুরে চলে আসি পার্টীর সর্ব ক্ষণের কর্মী হিসাবে কাজ করব বলে । এখানে এল আমার জীবনে কল্পনা এল আর বাড়িতে রইল আমার মা । যোগ দুর্গাপুর প্রকল্পে । এখানে কমিউনিস্ট যুব ছাত্র আন্দোলন গড়ে তুলে আধাফাসিবাদি লড়াই যোগ্য সংগঠক এর ভুমিকা পালন করেছি ।
অনেক সময় আমার মনে হয় দুর্গাপুর আমাকে অনেক দিয়েছে আবার অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে । কেড়ে নিয়েছে আমার ছোট জন্মভুমি আমার সেই পৈতৃক বাসভুমি । আমার ছোট বেলার খেলার বাগান বাড়ি ।
কল্পনা কে বিয়ে করলাম । তাকে নিয়ে মালদহের রতুয়া থানা জাননগর গ্রামে নিয়ে গেলাম । মা তাকে মেনে নিতে পারেনি বুঝতে পাড়লাম কিন্তু আমার করার ্কিছু নেই । একদিকে আমার মা অন্যদিকে কল্পনা এক মহা সঙ্কটে পড়লাম , কাকে ছাড়ি কাকে রাখি ? দিশাহীন হয়ে পড়লাম । মাকে দুর্গাপুরে এনে রাখার চেষ্টা করলাম । কিন্তু আমি পারিনি তাকে দুর্গাপুরে রাখতে । আমি আমার ঘর বাড়ি ও মাকে জাননগরে অনিল ঘোষের ভরসায় রেখে এসেছিলাম সেই অনিল ঘোষ আমার মার কাছ থেকে ভুলিয়ে সমস্ত জমি লিখিয়ে তাকে তার বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে । রাস্তায় বসবাস করতে শুরু করে । আমি লজ্জায় অভিমানে জাননগর যাওয়া বন্ধ করে দিয়ে ছিলাম । তার মৃত্যু সংবাদ পর্যন্ত আমার কাছে গোপন রাখে ।

এরাই হলেন আমার বাবা মা । যাদের আমি সর্ব দেবতা ও স্বর্গের চেয়ে বেশি ভাল বাসি //
আমি চলে এলাম দুর্গাপুরে , পড়ে রইল আমার মাতৃভূমি পড়ে রইল আমার জন্মদাত্রী মা । আমি কমিউনিস্ট পার্টি সর্ব ক্ষণের কর্মী হব বলে শ্রমিক আন্দলনের পীঠস্থান দুর্গাপুর হল আমার ঠিকানা । যোগ দিলাম দুর্গাপুর ।
ঠিকাদার শ্রমিক আন্দলনের মধ্য দিয়ে ৪৫০ জন ঠিকা শ্রমিক কে প্রকল্প স্থায়ী করন করতে বাধ্য হয় সংস্থা ।
আমার মতাদর্শ আমার জীবন
যুগল কিশোর ঝা jugaljha@gmail.com . Cell 9474546803



Comments
Post a Comment